ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে বৃহস্পতিবার (৩১শে অক্টোবর) ভোর থেকে শুক্রবার (১লা নভেম্বর) ভোর পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ৫০ জন শিশুসহ ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৮৬ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

তবে নিহত এবং আহতদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। কারণ যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, লোকবল ও উপকরণের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শুক্রবারের পর গত এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৩ হাজার ২৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮২৭ জন।

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস এবং তাদের মিত্রগোষ্ঠী প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের ১ হাজার যোদ্ধা। তাদের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরাইলি নিহত হন। সেই সঙ্গে ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় যোদ্ধারা। আকস্মিক এই হামলার পর ওইদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী, যা এখনও চলছে। এ অভিযানে গত ১৩ মাসে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এবং তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেসব চেষ্টা সফল হচ্ছে না। কারণ অভিযান বন্ধ করার জন্য ইসরাইলকে নিয়মিত আহ্বানও জানানো হলেও তা উপেক্ষা করেই হামলা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে গাজা উপত্যকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ। অভিযানের গত এক বছরে গাজার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর বাধার কারণে সেখানে খাদ্য, সুপেয় পানি ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা।